১৭ই মে, ২০২১ ইং, সোমবার

লুটপাটের তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয়ে শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি?

আপডেট: জানুয়ারি ৫, ২০২১

| ডেস্ক রিপোর্টঃ

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

“শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় ” ময়মনসিংহের অদূরে নেত্রকোনায় প্রতিষ্ঠিত হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নামে ৪২তম এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। নিজেদের ক্যাম্পাস কিংবা নিজস্ব কোনো অফিস না থাকার পরও শুরু হয় ভাড়া নেওয়া বিল্ডিং এ এর কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকে এলাকার রাজনৈতিক মানুষজন থেকে শুরু করে অন্যান্য সংগঠনের ব্যক্তিদের আগ্রহের মূলে এ বিশ্ববিদ্যালয়।

কেওবা ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধার, কেওবা দূর্নীতির বেড়াজাল সৃষ্টির প্রয়াস নিয়েই ব্যস্ত সেই শুরু থেকেই।কিন্তু এসব দূর্নীতিবাজ আর সুযোগসন্ধানী কর্মকর্তাদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের-ই রেজিস্ট্রার কাজী নাসির উদ্দিন।

সব শিক্ষার্থীদের প্রিয়, এ বাস্তববাদী কর্মকর্তাকে আচমকাই নিয়ম বহির্ভূতভাবেই অব্যহতি দেওয়া হয় গত ৩ জানুয়ারি রাতে।এ ব্যাপারে মাননীয় উপচার্যের সাথে কথা বলা হলে তার বক্তব্য ছিলো অযৌক্তিক।

নিয়ম অনুযায়ী, আগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হয়। পরবর্তীতে সেগুলো সিন্ডিকেটে পাস করানোর পর অব্যাহতি দিতে হয় বলে জানান ওই রেজিস্ট্রার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল্লাহ খান এ ব্যাপারে বলেন ” অনেক দিন থেকেই নেত্রকোনাবাসী বিরক্ত তার প্রতি। ইউজিসি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ আরও অনেকেই বিরক্ত নানা আচরণে। এই সব মিলিয়েই দেওয়া হয়েছে। আমি নিয়োগ দিয়েছি আমিই অব্যাহতি দিয়েছি”

অব্যাহতিপত্রে কি লিখেছেন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লিখিত অব্যাহতিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে আপনাকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।’

এভাবে অব্যাহতি দেওয়া যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এসে নেই নেত্রকোনা। সামনাসামনি কথা বলবো।’

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে অব্যাহতিপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কাজী নাসির উদ্দিন বলেন, ‘টেন্ডার ড্রপ, ট্রেজারারকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্টটাইম কাজের সুযোগ, নিয়োগসহ নানা অনিয়ম করতে না দেওয়ায় এবং সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সকল তথ্য চলে যাবার ভয়ে আমাকে অব্যাহতি দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমত, গত বৃহস্পতিবার টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ওদিনই আমাকে অব্যাহতি দিয়েছে। কারণ বেশ কিছু গোপনীয় বিষয় থাকে। এগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে দিলে সে অনুযায়ী টেন্ডার সাবমিট করবে। একটি বড় অংকের লেনদেনের মাধ্যমে কাজ পাবে লিঁয়াজোকারী প্রতিষ্ঠান। কাজে নয় ছয় করে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার একটা লুটপাট হবে। আমি থাকলে সেটি করতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সব তথ্য যাবে। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন ট্রেজারার সুব্রত কুমার আদিত্যকে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্টটাইম কাজ করতে চাইলে আমি সেটিতে রাজি হইনি। কারণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খর্ব করার আমার কোনো রাইটস নাই। এছাড়াও এডহক ভিত্তিতে প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দেওয়াও একটি বিষয়। তিনি বিজ্ঞাপন অনুযায়ী দারোয়ান নিয়োগ দেন নাই। এর বাইরে অন্য চারজনকে নিয়োগ দিয়েছেন টাকা নিয়ে।’

কাজী নাসির উদ্দিন আরও বলেন, ‘এছাড়াও শিক্ষার্থী ভর্তির সময় শাহিন নামের এক শিক্ষককে দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস করিয়েছেন। তার উপর রয়েছে নিয়োগের বিষয়। সব মিলিয়ে যা তা করলে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত চলে যায়। তিনি নেত্রকোনায় থাকেন না নিয়মিত। ট্রেজারারও কোনোদিন এসেছে বলে মনে হয়নি। ইচ্ছেমতো স্বার্থ কায়েম করতে না পেরে এটি করেছেন। যা নিয়ম বহির্ভুত।’

শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি সবার প্রিয় ছিলেন এবং নিয়মের ব্যাপারে কঠোর ছিলেন। এ কঠোরতার জন্যই সুযোগসন্ধানী কর্মকর্তাদের অপ্রিয় হয়েছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের দাবী তারা কাজী নাসির উদ্দিনকে পুনরায় রেজিস্ট্রার হিসেবে পেতে চায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস তৈরীর কাজ সহ অন্যান্য কার্যক্রম যাতে দুর্নীতিমুক্ত ভাবে হয় সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান ।

তাদের ভাষ্যমতে, প্রধানমন্ত্রীর নামের এ প্রতিষ্ঠানে দূর্নীতি হবে,তা প্রধানমন্ত্রী মেনে নিবে এটা কখনোই কাম্য নয়।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন